✤✤ আতিয়া মসজিদ ✤✤
বাংলাদেশে প্রচলিত বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক মুদ্রিত পূর্বের ১০ (দশ) টাকা মূল্যমানের নোটের একপার্শ্বে আতিয়া মসজিদের ছবি রয়েছে। • আতিয়া মসজিদ বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলায় অবস্থিত একটি প্রাচীন ঐতিহাসিক মসজিদ যা বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এই মসজিদটি ষড়োশ শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছে এবং এখানে নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায় করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের পুরাতত্ত্ব বিভাগ এ স্থাপনার তত্ত্বাবধান করছে। • ৪০০ বছর পুরনো আতিয়া মসজিদ বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার থানার আতিয়া গ্রামে অবস্হিত ৷ টাঙ্গাইল শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে , মুসলিম জমিদার বাইজিদ খান পান্নির পুত্র সাঈদ খান পান্নি এই মসজিদ ১৬১০ সালে নির্মাণ করেছিলেন ৷ আয়তনে ছোট এই মসজিদটির তিনটি গম্বুজ,যার একদম উপরে মিনার রয়েছে ভূমিকম্পে ১৮০০ সালে এটা খতিগ্রস্থ হয়েছিল এবং ১৮৩৭ সালে সংস্কার করা হয় ৷ এরপর ১৯০৯ সালে টাঙ্গাইল এর করটিয়ার এবং দেলদুয়ারের জমিদার আবার এটির সংস্করের কাজ শুরু করেন ৷৷ • আরবি ‘আতা’ থেকে ‘আতিয়া’ শব্দটির উৎপত্তি, যার ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো ‘দান কৃত’। আলী শাহান শাহ্ বাবা আদম কাশ্মিরী (রঃ)-কে সুলতান আলাউদ্দিন হুসায়েন শাহ টাঙ্গাইল জেলার জায়গিরদার নিযোগ দান করলে তিনি এই অঞ্চলে এসে বসবাস শুরু হরেন; সেসময় তিনি ইসলাম ধর্ম প্রচারের এবং আনুষাঙ্গিক ব্যয় নির্বাহের জন্য আফগান নিবাসী কররানী শাসক সোলাইমান কররানীর কাছ থেকেসংলগ্ন এলাকা দান বা ওয়াকফ্ হিসাবে লাভ করেন। এবং এই এলাকাটি তাঁকে দান করায় এই অঞ্চলটির নাম হয়েছে ‘আতিয়া’। • লাল ইট দ্বারা নির্মিত এই মসজিদটি আকারে বেশ ছোট, মাত্র ১৮.২৯ মিটার (৫৯ ফুট) x ১২.১৯ মিটার (৪০ ফুট) এবং দেয়ালের পুরুত্ব ২.২৩ মিটার (সাড়ে ৭ ফুট)।এর চারকোণে ৪টি অষ্টকোণাকৃতীর মিনার রয়েছে, যার উপরের অংশটি ছোট গম্বুজের আকৃতি ধারণ করেছে। • সুলতানি ও মুঘল - এই দুই আমলেরই স্থাপত্যরীতির সুস্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে এই মসজিদের নির্মান শৈলীতে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন