রবিবার, ৩১ জুলাই, ২০১৬

গোপালপুর উপজেলা

Be the first to comment!

গোপালপুর বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এর মোট আয়তন : ১৯৩.৩৭ বর্গ কিঃমিঃ।

অবস্থান

এই উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান ২৪.৫৫৮৩° উত্তর ৮৯.৯১৬৭° পূর্ব গোপালপুর উপজেলা টাঙ্গাইল জেলা সদর থেকে ৫৫ কিঃ মিঃ উত্তরে অবস্থিত। এর উত্তরে ও পূর্বে ধনবাড়ী, মধুপুরএবং ঘাটাইল উপজেলা, দক্ষিণে ঘাটাইল এবং ভুঞাপুর উপজেলা, পশ্চিমে সরিষাবাড়ী ও জামালপুর জেলা।

প্রশাসনিক এলাকা

একটি পৌরসভা এবং ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে এ উপজেলা গঠিত। যেমন-  গোপালপুর পৌরসভা
১) হাদিরা ইউনিয়ন
২) নগদাশিমলা ইউনিয়ন
৩) ঝাওয়াইল ইউনিয়ন
৪) হেমনগর ইউনিয়ন
৫) আলমনগর ইউনিয়ন
৬) মির্জাপুর ইউনিয়ন এং
৭) ধোপাকান্দি ইউনিয়ন।
রাজধানী ঢাকা থেকে ১৫০ কিলোমিটার এবং জেলা সদর টাঙ্গাইল থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান।

ইতিহাস

পরীর দালান, হেমনগর জমিদার বাড়ি।

টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ কর্তৃক ২০০৮ সালে প্রকাশিত ‘ টাঙ্গাইল জেলায় স্থাননাম বিচিত্রা’ নামক গ্রন্থে গোপালপুর নামকরণ নিয়ে দু ধরনের মতামতের উলেস্নখ রয়েছে। প্রথমত-মুঘল শাসনামলে গোপাল শাহ নামক একআফগান দরবেশ এখানে এসে আসত্মানা গড়েন। এ গোপাল শাহের নামুনুসারে নাম হয় গোপালপুর। দ্বিতীয়ত-চট্রগ্রাম থেকে আগত গোপাল জমিদার রাণীভবানীরনিকট হতে এ মৌজ পত্তনি নেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাস শুরম্ন করেন। তার নামানুসারে নাম হয় গোপালপুর। এখানে পুর বলতে বাড়ী আসত্মানা বুঝানো হয়েছে। শেষের অভিমত অধিকতর সঠিক বলে মনে হয়। ১৯০৪ সাল পর্যমত্ম গোপালপুর মৌজা হিন্দু অধ্যুষিত ছিল এবং হিন্দু মহাজনরা বৈরান নদীর তীরে গেপালপুর মৌজার নন্দনপুর এলাকায় পাটের কারখানা গড়ে তুলেন। ১৯৭২ সালে গোপালপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে ভূঞাপুর উপজেলা গঠিত হয়। ১৯৮৭ সালে গোপালপুর উপজেলার মুশুদ্দী ইউনিয়নকে মধুপুর উপজেলার অমর্ত্মভূক্তকরা হয়। পরবর্তীতে মুশুদ্দী ইউনিয়ন ধনবাড়ি উপজেলার অমর্ত্মভূক্ত হয়।

জনসংখ্যার উপাত্ত

২০০১ এর আদমশুমারী অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা:২,৭৪,২৭৩ জন।এদের মধ্যে পুরুষ- ১,৩৮,৮৮৪ জন, মহিলা- ১,৩৫,৩৮৯ জন।

অর্থনীতি

গোপালপুর একসময় পাট ব্যাবসায় বিশেষ প্রসিদ্ধ ছিল । প্রধান শস্য ধানের পাশাপাশি প্রচুর পাট উৎপাদন করত স্থানীয় কৃষকরা । নদীপথে দূর দুরান্তের বিভিন্ন স্থানে নৌকা বোঝাই পাট যেত । কিন্তু পাট ব্যাবসা ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যায় । গোপালপুর অর্থনৈতিকভাবে অনেক পিছিয়ে পরেছে। তবে বর্তমানে পোলট্রি শিল্প নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখা দিয়েছে ।

কৃতী ব্যক্তিত্ব

হাতেম আলী খান, আলহাজ হাতেম আলী তালুকদার,খন্দকার আসাদুজ্জামান, তারামিয়া কমান্ডার, শহীদুল ইসলাম লালু বীর প্রতীক, ভাষা সৈনিক হযরত আলী, মোঃ রুবেল আহমেদ

দর্শণীয় স্থান

চর চতিলা বাঁশ তৈরি কারুশিল্প, হেমনগর জমিদার বাড়ী, খামারপাড়া মসজিদ, খামারপাড়া মাজার।
  • 0Blogger Comment
  • Facebook Comment